শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
মো: রেজাউল করিম রয়েল, শ্রীনগর(মুন্সীগঞ্জ)প্রতিনিধি:: শ্রীনগরে প্রায় ৫ একর আয়তনের ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাবুর পুকুর ভড়াট বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার বালাসুর এলাকায় গিয়ে তিনি পুকুরটি ভড়াট বন্ধ করে দেন এবং ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করার নির্দেশ দেন।
স্থানীয়রা জানায়, বালাসুর এলাকার প্রায় ৪.৮৩ একরের পুকুরটির মালিক ছিলেন ভাগ্যকুলের বিখ্যাত জমিদার রাজা জানকীনাথ রায়ের পুত্র জমিদার রমেন্দ্রনাথ রায়। পদ্মায় ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেলে তারা বালাসুর এসে প্রায় ১৯ একর জায়গায় বসতবাড়িটি নির্মাণ করেন। রমেন্দ্রনাথ লন্ডন গিয়েছিলেন বলে তাকে সাহেব বলে ডাকা হত। একারনে তার পুকুরটি সাহেব বাবুর পুকুর হিসাবে পরিচিত পায়। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পরে রমেন্দ্রনাথ আর এখানে আসেননি। এখন শোনা যাচ্ছে রমেন্দ্রনাথের ধর্মান্তরিত বংশধর সেজে ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দেখিয়ে পুকুরটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরটির মালিকানা দাবী করে তা ভড়াট শুরু করে একটি চক্র। ভড়াটের শুরু থেকেই প্রতিবাদে স্থানীয়রা সরব হয়ে উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে সমালোচনার ঝড়।
স্থানীয়রা আরো জানান, এত বড় একটি জলাশয় ভড়াট হয়ে গেলে এই এলাকায় পরিবেশের বিপর্যয় শুরু হবে। বৃষ্টির পানি নামার কোন জায়গা না থাকায় শুরু হবে জলাবদ্ধতা।
সরকারি আইনে জলাধার ভড়াট নিষিদ্ধ। কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে বিকল্পধারার নেতা মামুনের নেতৃত্বে চক্রটি ঐহিত্যবাহী এই জলাশয়টি ভড়াট শুরু করে। শনিবার দুপুরে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাটি ভড়াট বন্ধ করে দেন এবং ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। এসময় প্রশাসনের লোকজন প্রায় অর্ধ শতাধিক ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করে।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন অনুসারে জলাধর ভড়াট নিষিদ্ধ। একারনে পুকুরে মাটি ভড়াট বন্ধ করে ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়।